এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থানার সামনে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। এতে সড়কের দুই পাশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়।
সোমবার রাতে বাপ্পীকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী থানার সামনে অবস্থান ও সড়ক অবরোধ করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা এবং ঈশ্বরদী থানার ওসির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
রাত ৮টার দিকে বিএনপির কয়েকজন নেতা থানায় গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ও ওসি আশাদুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে অবরোধ স্থগিত করা হয়। তবে পথসভায় নেতারা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান জানান, বাপ্পীর বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
তাকে ডিবির কাছে হস্তান্তরের পর সোমবার রাতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তার হাতে থাকা শটগানটি নিজের নামে লাইসেন্স করা হলেও প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের কারণে লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার বিকেলে ঈশ্বরদী শহরের কলেজ রোডে নিজের বাড়ি থেকে মাথায় কাফনের কাপড় ও হাতে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বের হন বাপ্পী। প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক হেঁটে তিনি অস্ত্র হাতে মহড়া দেন।
পরে রেলগেটের জিরো পয়েন্টে গিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন এবং হুমকিদাতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ছাত্রদল, যুবদল ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা থানায় গিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয় এবং ডিবিতে পাঠায়। সেখান থেকেই মুচলেকায় মুক্তি পান তিনি।
বাপ্পী বর্তমানে কোনো সাংগঠনিক পদে না থাকলেও নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

0 Comments