গ্যাস সংকটের কারণে অনেক পোশাক কারখানা বন্ধ, পরিস্থিতি কতদিন চলবে?

গ্যাস সংকটের কারণে অনেক পোশাক কারখানা বন্ধ, পরিস্থিতি কতদিন চলবে?
গ্যাস সংকটের কারণে অনেক পোশাক কারখানা বন্ধ, পরিস্থিতি কতদিন চলবে? বিবিসি বাংলা ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৬ PM তীব্র গ্যাস সংকটে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তীব্র গ্যাস সংকটে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। 

 বিবিসি বাংলা বাংলাদেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটে টেক্সটাইল মিল, ডাইং ও ফিনিশিং কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল দুপুর থেকে অনেক স্থানে গ্যাসের চাপ পাওয়া গেলেও অনেক স্থানে পরিস্থিতি এখনও আগের অবস্থায় ফেরেনি। বিশেষ করে, ময়মনসিংহের ভালুকা বা গাজীপুরের শ্রীপুরে এখনও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। 
 
গত ২০ দিন ধরে চলমান এই গ্যাস সংকটকে 'নজিরবিহীন' কিংবা 'অস্বাভাবিক' বলে মনে করছেন শিল্পমালিকরা। তারা বলছেন, এবার তারা অপরিসীম ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারা, বাড়তি খরচ গোণা, এমনকি ভবিষ্যতের ক্রয়াদেশ হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা। 


 এদিকে, সরকার থেকে গতকালই জানিয়েছে যে দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের সমাধান ছয় মাস এক বছরে হবে না, কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগতে পারে। বাংলাদেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটে টেক্সটাইল মিল, ডাইং ও ফিনিশিং কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল দুপুর থেকে অনেক স্থানে গ্যাসের চাপ পাওয়া গেলেও অনেক স্থানে পরিস্থিতি এখনও আগের অবস্থায় ফেরেনি। বিশেষ করে, ময়মনসিংহের ভালুকা বা গাজীপুরের শ্রীপুরে এখনও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। 



 বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন যে গ্যাসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন যে পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে, তার কোনো রাতারাতি সমাধান নেই। কিন্তু হাতের নাগালেই এমন কিছু উপায় রয়েছে, যেগুলো গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হলে এই সংকট থেকে উত্তরণ করা অনেকটাই সম্ভব। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সরবরাহ সক্ষমতা আছে দুই হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তাহলে দৈনিক গ্যাসের ঘাটতি অন্তত এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট, যা মোট চাহিদার প্রায় ২৬ থেকে ২৯ শতাংশ। 


এই ঘাটতি নিশ্চিত করা হয় বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির মাধ্যমে। বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দু'টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ রয়েছে। এক্সিলারেট এনার্জি এবং সামিট গ্রুপ পরিচালিত এই টার্মিনালগুলোর মাধ্যমেই বিদেশ থেকে আনা এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন বা রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। তবে গত ২১শে জুলাই আগুনে সেই এলএনজি টার্মিনালের একটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। 

 শুরুতে এই সংকটকে সাময়িক হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ত্রুটি চিহ্নিত করতে সময় বেশি লাগার কারণেই প্রেক্ষাপট আরও জটিল হয়েছে। গতকাল দু'টো এলএনজি টার্মিনালই হয়েছে এবং গ্যাস সরবরাহও কিছুটা বেড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সংকট তীব্র হওয়ার পেছনে, এর পেছনে মূল কারণ ত্রুটিযুক্ত এফএসআরইউ না। বরং, সংকটের একটি বড় কারণ হলো দেশের পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং সেই ঘাটতি পূরণে পর্যাপ্ত নতুন গ্যাসক্ষেত্র বা কূপ থেকে উৎপাদন যোগ না হওয়া। ফলে কয়েক বছর ধরেই বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও আবাসিক গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে। আর দেশীয় উৎপাদনের ঘাটতি সামাল দিতে বাংলাদেশকে এলএনজি আমদানি করে সেগুলো জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হয়। 



অর্থাৎ, দেশের গ্যাস সরবরাহ এখন শুধু নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রের ওপর নির্ভরশীল নয়, আমদানি করা এলএনজিও গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎস। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলছেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে যথেষ্ট গুরুত্ব না দিয়ে ২০১৮ সাল থেকে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩০ শতাংশ এলএনজি থেকে এবং বাকি ৭০ শতাংশ দেশীয় উৎস থেকে আসছে। কিন্তু আমদানি করা এলএনজির খরচ দেশীয় গ্যাসের তুলনায় অনেক বেশি বলে জানান তিনি।

 বাংলাদেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। কিন্তু ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অস্থিরতা এখনও চলছে। তাই, মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলএনজি আমদানি করার ক্ষেত্রেও একপ্রকার জটিলতা তৈরি হয়ে আছে। খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের হিসাবে, দেশীয় উৎস থেকে ৭০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহে বছরে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও বাকি ৩০ শতাংশ এলএনজি আমদানিতে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। ফলে সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে এলএনজিনির্ভর সমাধান ব্যয়বহুল হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে আমদানি নির্ভরতাও বাড়াচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।


 গ্যাস সংকটের কারণে গ্যাসনির্ভর টেক্সটাইল, নিটওয়্যার, ডাইং ও ফিনিশিং কারখানাগুলোর ক্ষতি হচ্ছে। কোথাও উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়েছে, আবার কোথাও সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম উৎপাদন হচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments