বিচারক ফখর আল-দীন আল-আরিয়ান জানান, ওয়াসিম একাধিক হত্যাকাণ্ড এবং নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতার সঙ্গে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালতের মতে, এসব কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের আওতায় পড়ে। এ কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গঠন করেছিলেন সশস্ত্র গোষ্ঠী
আদালত জানিয়েছে, ওয়াসিম সাবেক সরকারের প্রতি অনুগত দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠী গঠন করেছিলেন। এসব গোষ্ঠী রাজধানী দামেস্কের আশপাশে প্রাণঘাতী হামলায় অংশ নিয়েছিল।
এ ছাড়া গৃহযুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত উসকে দেওয়া, মানুষকে বেআইনিভাবে আটক এবং নির্যাতনের অভিযোগেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
তবে মাদক পাচার ও চোরাচালানের অভিযোগ থেকে ওয়াসিমকে খালাস দিয়েছে আদালত। এ অভিযোগ প্রমাণের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে নতুন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলাটি আবারও খোলার সুযোগ রেখেছে আদালত।
এই রায়ের বিরুদ্ধে সিরিয়ার সর্বোচ্চ বিচারিক প্রতিষ্ঠান কাসেশন কোর্টে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
ওয়াসিম আল-আসাদের বিচার শুরু হয় গত জুনের শেষ দিকে। এর আগে গত বছর লেবানন-সিরিয়া সীমান্তের কাছে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, একটি অভিযানের মাধ্যমে তাকে আটক করা হয়।
তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে ছিলেন না। তবে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। সে সময় ওয়াসিমকে একটি আধাসামরিক বাহিনীর নেতা এবং আঞ্চলিক মাদক পাচার চক্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
গৃহযুদ্ধের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াসিমকে দামি গাড়ির পাশে ছবি তুলতে দেখা যেত। কখনো তাকে সামরিক পোশাকে ও অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। অন্য সশস্ত্র ব্যক্তিদের সঙ্গেও তার ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। এসব পোস্টে তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পক্ষে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
বাশার আল-আসাদকেও মৃত্যুদণ্ড
এর আগে গত মঙ্গলবার সিরিয়ার আদালত বাশার আল-আসাদকেও মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই রায় দেওয়া হয়। নতুন সরকারের অধীনে এটিই বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে প্রথম এমন রায়।
এ ছাড়া সাবেক ছয় সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকেও অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বাশারের ভাই মাহের আল-আসাদ, যিনি সেনাবাহিনীর প্রভাবশালী চতুর্থ ডিভিশনের নেতৃত্বে ছিলেন।
সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আতিফ নাজিব—যিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন—তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সিরিয়ার বিদ্রোহের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান থাকাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
গৃহযুদ্ধে নিহত পাঁচ লাখের বেশি
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হয় প্রায় ১৪ বছর আগে।
গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভ দমনে তৎকালীন সরকারের কঠোর পদক্ষেপের পর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে, পরবর্তী সময়ে ৫ লাখের বেশি মানুষ নিহত হন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। এছাড়া কয়েক দশ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন।
সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব জানিয়েছে, সাবেক সরকারের আমলে সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।
জাতিসংঘ মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করলেও গত সপ্তাহে বলেছে, দীর্ঘদিনের বিচার, জবাবদিহি ও সত্য জানার দাবি পূরণ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে।

0 Comments